বিপিএলের গ্যালারী ফাঁকা


৯ জানুয়ারী ২০১৯ ২১:১৭

আপডেট:
২৪ মার্চ ২০১৯ ১৩:০৮

হাঁকডাক ছাড়াই গত ৫ জানুয়ারি শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। কথায় আছে দিনের শুরুতেই বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম দিন হাতে গোনা কয়েকটি বেলুন আর গুটি কয়েক আতশবাজি পুড়িয়ে শুরু করা হয়েছিল এবারের বিপিএল। আর সেই সাদামাটার ধারাবাহিকতাই শেষ হল বিপিএলের পঞ্চম দিন। গ্যালারি ছিল প্রায় শূন্য।

মাঠের ম্যাড়ম্যাড়ে স্বল্প রানের খেলা চলায় মিরপুরমুখী হচ্ছেন না দর্শকেরা। নেই কোন চিয়ার লিডার, ডাকের বাদ্য বা আতশবাজির ঝলকানি। পাড়ার টুর্নামেন্টের মত সাদামাটা খেলা দেখতে ক্রিকেট ভক্তদের আগ্রহ কমে গেছে। সাদামাটা আয়োজন, প্রচারণা অভাবসহ রয়েছে নানা অভিযোগ। তাছাড়া ভরদুপুরে দিনের প্রথম ম্যাচ শুরুতে দর্শকদের পড়তে হচ্ছে বেশ ভোগান্তিতে। গ্যালারিতে বাইরের কোন খাবার নিয়ে প্রবেশে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। গ্যালারিতে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোতে অনেক গুণ বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে খাবার। সকাল সাড়ে বারোটা থেকে শুরু ম্যাচ দেখতে হলে স্টেডিয়াম এলাকায় আসতে হচ্ছে আরো সকালে। তাছাড়া মিরপুরের মেট্রোরেলের জন্য সড়কে সৃষ্ট হয় যানজট। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক বেশি সময় লাগছে। মূলত একারণে দিনের প্রথম ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শক কম হচ্ছে। ঘরে বসে যারা টেলিভিশনে চোখ রাখছেন তাদের পক্ষ থেকেও আছে নানা অভিযোগ, নিন্মমানের ধারাভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বল্পতা।

বিপিএল আয়োজনে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে টিভি সম্প্রচারের মান নিয়েও। ডিসিশান রিভিউ সিস্টেম প্রযুক্তি নিয়েও তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। এসব সমস্যা স্বীকার করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ সোহেল বলেছেন, আশা রাখছি, আগামী সপ্তাহ থেকে ভুলগুলো সারিয়ে জমে উঠবে এবারের আসর।

যদিও এই বিপিএল চলাতে অস্ট্রেরিয়ার বিগ ব্যাশের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বিগ ব্যাশ এবং বিপিএল একই সময়েই শুরু হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম এই দুইটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে সবসময়ই তারকাদের সমাহার থাকে। আর এবার একই সাথে চলতে থাকায় রীতিমতো তারকাদের নিয়ে দুই লীগের টানাটানি শুরু হয়েছে। এতে দুইটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগের একটির হাতে এসেছে বেশি তারকা আর আরেকটি হারিয়েছে জৌলুস।

অনেকে হয়তো ধরে নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের চেয়ে বেশি উন্নত দেশ হওয়াতে বিগ ব্যাশই বেশি তারকা পেয়েছে। আসলে সেটা হয়নি। আগে যেখানে সব খেলোয়াড়রাই বিগ ব্যাশের পিছনে ছুটতেন, সেখানে এবার একটি মোটা অংশের খেলোয়াড়রা বিপিএলমুখী হয়ে বাংলাদেশ মাতাচ্ছেন।

এমনকি নিজেদের পুরোনো জৌলুস হারিয়ে ফেলেছে বিগ ব্যাশ। এমনটাই বলছে অস্ট্রেলিয়ার সেরা সংবাদমাধ্যামগুলো। তাঁরা স্মিথ ও ওয়ার্নারকে উদাহরণ হিসেবে দেখাচ্ছে। এই দুই তারকা অবশ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে বিগ ব্যাশে অনুপস্থিত।

শুধু স্মিথ-ওয়ার্নারই নয়, বিপিএলে খেলছেন অধিকাংশ তারকারাই। ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ইয়াসির শাহ ও কার্লোস ব্র্যাথওয়েটের মতো টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টরাও এবার বিপিএলকে প্রাধান্য দিয়েছেন। আবার সিলেট পর্ব থেকে খেলবেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি এবিডি ভিলিয়ার্স।

অন্যদিকে বিগব্যাশে আছেন আফগান তারকা রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবি। আছেন বেশকিছু ইংলিশ ও ক্যারিবিয়ান তারকারাও।
বিগ ব্যাশ ও বিপিএলে বিশ্ব তারকাদের অন্তর্ভুক্তির তুলনামূলক চিত্র
বিগ ব্যাশ: জস বাটলার, জো রুট, ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম, রশিদ খান, জোফ্রা আর্চার, মোহাম্মদ নবী, ডোয়াইন ব্র্যাভো, ডেভিড উইলি, টম কুরান, জো ডেনলি।
বিপিএল: ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, এবি ডি ভিলিয়ার্স, সুনীল নারাইন, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ইয়ান বেল, মোহাম্মদ আসিফ, স্টিভেন স্মিথ, শোয়েব মালিক, শহীদ আফ্রিদি, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, ডেভিড মালান, লাসিথ মালিঙ্গা, ইয়াসির শাহ, মোহাম্মদ হাফিজ, ডেভিড ওয়ার্নার, সন্দ্বীপ লামিচানে।

এদিকে গ্যালারি শূন্য হাওয়াতে মাঠের বাইরে থাকা কিছু দর্শকের সাথে কথা বলা হয়, তাদের অনেকে জানিয়েছেন অনেক অভিমত। সুজন নামের এক দর্শক জানান, ‘সর্বনিন্ম দুই শত টাকা দিয়ে টিকিট কাটলেও আমাদের খেলা দেখতে গেলে আরো দুই শত টাকার মত খরচ হয়। তাছাড়া দুই শত টাকার টিকিটে দুই’শ রান দেখতে না পারলে টাকা উসুল হয় না। টুর্নামেন্ট আরো একটু জমুক তার পরে আমি মাঠে খেলা দেখতে যামু’ এমনি আরো অনেক অভিযোগ করেছেন মিরপুর এলাকার বিভিন্ন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

এর সাথে আছে নানা অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার অভিযোগ। এবারের আসরে দেখা যাবার কথা ছিল ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)। কিন্তু প্রথম কয়েক ম্যাচে এর প্রযুক্তির প্রযোগ দেখা যায়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর সাথে সাথেই একাধিকবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত। বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সম্প্রচারিত বিপিএল টুর্নামেন্টে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে ভুল আম্পায়ারিং। কথা ছিল, অত্যাধুনিক সম্প্রচার ব্যবস্থা। মাঠ থেকে সরাসরি খেলা সম্প্রচারে দক্ষ জনবল এবং অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার। কিন্তু কাগজে এসব থাকলে বাস্তবে তার কোন প্রযোগ দেখা যায়নি।