মিঠুন ও সাঈফউদ্দীন ছিল উজ্জ্বল

প্রথম ম্যাচেই ইতিহাসের পাতায় মাশরাফি


প্রকাশিত:
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৫:২৩

Print Friendly and PDF

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নেপিয়ারে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আর এ ম্যাচ দিয়ে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন সফরকারী দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।
১৮ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে অভিনব কীর্তি গড়লেন মাশরাফি। প্রথম বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে তিন সংস্করণ মিলিয়ে শততম ম্যাচে অধিনায়কত্ব করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি।

আর এই ঘটনা ক্রিকেট ইতিহাসের ৪০ তম ঘটনা। মাশরাফির আগে নিজ দেশের হয়ে ১০০ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড আছে ৩৯জন ক্রিকেটার। এবার এ তালিকায় নাম লেখালেন বাংলাদেশের সফল এ অধিনায়ক।

টেস্ট ক্রিকেটে দলকে মাত্র একটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি। এছাড়া ৭০টি ওয়ানডে ও ২৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা এই অধিনায়ক।

মাশরাফির পর বাংলাদেশি অধিনায়কদের ৯৪ টি ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিক রহিম। আর তারপরের অবস্থানে আছেন হাবিবুল বাশার ৮৭ টি ম্যাচে টাইগারদের প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি।


মাশরাফির পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এ অর্জনে নাম লেখানোর হাতছানি রয়েছে সাকিব আল হাসানের সামনে। এখনো অবধি ৮০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন সংস্করণ মিলিয়ে নির্দিষ্ট একটি দেশকে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করার রেকর্ডটি এম এস ধোনির দখলে। অধিনায়কত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার আগে ৩৩২ ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

এদিকে আজকের ম্যাচে, পাঁচ নম্বরে নেমে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ২৯, সাব্বির রহমানের সঙ্গে ২৩, মেহেদি হাসান মিরাজের সঙ্গে ৩৭ এবং মোহাম্মদ সাঈফউদ্দীনের সঙ্গে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৭৮ রানের জুটি গড়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন। আর শেষ পর্যন্ত নিজের খেলেন ৯০ বলে ৬২ রানের লড়াকু এক ইনিংস।
একপ্রান্ত আগলে দলকে নিয়ে যান চ্যালেঞ্জিং স্কোর ২৩২ রানে। অন্য সব ব্যাটসম্যানরা যেখানে যোগ দিয়েছেন আসা যাওয়ার মিছিলে সেখানে নিজের প্রান্তে অবিচল থেকে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধশতক।
ইনিংসের নবম ওভারে উইকেটে আসেন মিঠুন। তিনি কোনো বল খেলার আগেই সে ওভারের দ্বিতীয় বলে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরেন তখনো পর্যন্ত দুর্দান্ত ব্যাট করা সৌম্য। এরপর থেকেই শুরু মিঠুনের প্রতিরোধ।

অন্য প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির কিংবা মিরাজ যখন বেছে নিয়েছিলেন পাল্টা আক্রমণের পথ, তখন মিঠুন ধরেন দেখেশুনে খেলার পরিকল্পনা। তাই তো তার পরে নেমে মাহমুদউল্লাহ ১৩, সাব্বির ১৩ এবং মিরাজ ২৬ রান করে আউট হওয়ার সময়েও মিঠুনের রান মাত্র ২৬।

পাল্টা আক্রমণ করে ফায়দা হচ্ছে না দেখে সপ্তম উইকেটে সাঈফকে সঙ্গে নিয়ে বরং দেখেশুনে খেলার পথটাই বেছে নেন মিঠুন। লকি ফার্গুসনের গতি আর জিমি নিশামের নিখুঁত লাইনলেন্থের বিপক্ষে রান তোলার চেয়ে উইকেটে টিকে থাকাই উত্তম পন্থা মেনে খেলতে থাকেন এ দুজন।


ধীরেসুস্থে খেলে ইনিংসের ৪০তম ওভারে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটি পূরণ করেন তিনি। ৭৩ বলে ৪টি চারের মারে ৫০ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

শেষ পর্যন্ত মিঠুন ৯০ বলে ৬২ রান করে ফার্গুসনের বলে বোল্ড আউট হন। আর তরুণ অল রাউন্ডার সাঈফউদ্দীন ৫৮ বলে তিন চারে ৪১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ২৩২ (৪৮.৫)
তামিম ৫, লিটন ১, সৌম্য ৩০, মুশফিক ৫, মিঠুন ৬২, মাহমুদউল্লাহ ১৩, সাব্বির ১৩, মিরাজ ২৬, সাইফ ৪১, মাশরাফি ৯*, মুস্তাফিজ ০।
হেনরি ৯-১-৪৮-২, বোল্ট ৯.৫-০-৪০-৩, ডি গ্র্যান্ডহোম ৫-০-১৯-০, ফার্গুসন ১০-১-৪৪-২, স্যান্টনার ৮-০-৪৫-৩, নিশাম ৭-০-২৬-০।

স/রা/রা