প্রধানমন্ত্রী কতিপয় ডাকাত থেকে মানুষ বাঁচান!


প্রকাশিত:
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১২:০১

এভামাইস নেসাল স্প্রে ও এভাস্প্রে নেসাল স্প্রে

ছবিতে বামের ওষধটি বিদেশি কোম্পানির তৈরি, ডানের ওষধ বাংলাদেশি স্কয়ার কোম্পানির। বছর দেড়েক আগে ঠান্ডাজনিত প্রচণ্ড সর্দি আর কাশি নিয়ে যাই বাংলাদেশের খ্যাতনামা এক ডাক্তারের কাছে। তিনি বামের ওষধ এভামাইস নেসাল স্প্রে (বিদেশি কোম্পানির তৈরি) ব্যবহারের পরাশর্ম দেন। ওষধটি ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ সুস্থ করে দেন। গেল ৭-৮ মাস আগে আমার একই সমস্যা দেখা দিলে পুরনো প্রেসক্রিপশন বের করে অনেক খুঁজে ওষধটি তিনগুণ দামে অর্থ্যাৎ ১ হাজার টাকায় ক্রয় করি। ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ হই, আলহামদুলিল্লাহ। ওষধের দাম তিনগুণ কেন? প্রশ্ন করতেই দোকানি জানান, “মেডিসিনটি বাংলাদেশে বাজারজাত বন্ধ রয়েছে।”

কিছুদিন ধরে আবারও একই সমস্যায় ভুগছি। ভেবেছিলাম এমনিতেই সুস্থ হয়ে উঠবো। না, কোন উন্নতি নেই। বরং অবনতিই হচ্ছে। আবার সেই পুরনো প্রেসক্রিপশন নিয়ে গোটা ঢাকা সিটি খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হলাম। সব দোকানির একই কথা, ৫ হাজার টাকা দিলেও এটা পাওয়া যাবে না।

বিকল্প জানতে চাওয়ার আগেই তারা আমাকে দেশি স্কয়ার কোম্পানির তৈরি ডানের এভাস্প্রে নেসাল স্প্রে কিনতে পরামর্শ দেন। দুটোরই দাম কাছাকাছি। তাদের মুখে দারুণ সব ব্যাখ্যা শুনে তাৎক্ষনিক স্কয়ার কোম্পানির মেডিসিনটি ক্রয় করি। যে এভামাইস দুই থেকে তিনবার ব্যবহারেই সুস্থ হয়ে যেতাম, আর স্কায়ারের এই এভাস্প্রে অনেকবার ব্যবহার করছি। নূন্যতম উন্নতি নেই।

লেখকের ছবি

বিদেশ থেকে আসা ভালো ভালো মেডিসিন এদেশে বন্ধ করে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে দোকানিরা জানান, “বিদেশি এসব মেডিসিন যখন বাংলাদেশের বিমানবন্দরে প্রবেশ করে, ট্যাক্স পরিশোধের পরও নানা হয়রানি ও ঘুষ দিয়ে রিলিজ করতে হয়। ইমপোর্টাররা দেশি কোম্পানিগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিদেশি এসব ভালো মেডিসিন আনতে গড়িমসি করে। এতো ভালো মেডিসিন হওয়ার পরও ডাক্তারদের উপঢৌকন দিয়ে প্রেসক্রিপশন করাতে হয়। এছাড়াও দেশি কোম্পানিগুলোর রয়েছে নানা ষড়যন্ত্র, যেন বিদেশি ভালো মেডিসিন বাংলাদেশে না আসে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যারা আর্থিক সমস্যার কারণে বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না, তারা অন্তত দেশি কিছু ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দেশেই বিদেশি ওষধ সেবন করে সুস্থ হয়ে উঠেন। সেটা ষড়যন্ত্রের জালে বন্ধ কেন?

শাহাদাত স্বপন : সাংবাদিক

কান্ট্রিনিউজ২৪/এমআর