আদ-দ্বীনকে ব্লগার অভিজিতের মায়ের মরদেহ দান


প্রকাশিত:
৫ জানুয়ারী ২০১৯ ১৭:৪১

Print Friendly and PDF

নিহত ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মা শেফালী রায়ের মরদেহ আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজকে দান করেছেন তার পরিবার। গত ৩ জানুয়ারি শেফালী রায় চিরবিদায় নেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন। অভিজিৎ রায়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ধকল আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

এ বিষয়ে আদ-দ্বীন উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. মো. আশরাফ-উজ-জামান কান্ট্রিনিউজকে বলেন, সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে গত ৩ জানুয়ারি গ্রহণ করা হয়। যদিও শেফালী রায় আদ-দ্বীন হাসপাতালেই মারা গেছে, তারপরও লাশ গ্রহণের জন্য কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়। নিহতের মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট নিতে হয়। পরে সেই সার্টিফিকিটে তারা লাশ বুঝে পেয়েছেন মর্মে লিখিত দেন। পরে ৩শ’ টাকার স্ট্যাম্পে হলফনামায় মরদেহ দেওয়ার জন্য লিখিত দেন শেফালী রায়ের স্বামী ও অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়। আদ্ব-দীনের ফরেনসিক বিভাগের মাধ্যমে মরদেহ গ্রহণ করা হয়। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়। এরপর আদ্ব-দীন আবেদনটি গ্রহণ করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

ডা. আশরাফ বলেন, এটিই প্রথম মরদেহ, যা মরনোত্তর আদ-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজকে দান করা হয়েছে। এর ফলে আদ্ব-দীনের শিক্ষার্থীরা একটি তাজা মরদেহ পেয়েছে, যা সম্পূর্ণ অক্ষত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সম্মত অনেক বিষয় জানতে পারবে। যেমন মানুষের হার্ট, লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক এবং মহিলাদের জরায়ু কিভাবে কাজ করে। কোন অবস্থায় থাকে এ বিষয়ে শিখতে পারবে। এছাড়া তার হাড়গুলো সংরক্ষণ করে দীর্ঘ দিন কাজে লাগানো যাবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি একটি উপকার হল। এজন্য তিনি পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী ছিলেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যন্ত্র কৌশলে স্নাতক ডিগ্রী প্রাপ্ত এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ ছাড়ার আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তবে নিয়মিত ব্লগ ও বিজ্ঞানবিষয়ক লেখালেখির সাথে যুক্ত ছিলেন।