শনিবার জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন


৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৫:৪০

আপডেট:
৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৫:৫৮

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার সারাদেশে জাতীয় ভিটামিন 'এ' প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপন করা হবে। এদিনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ২৫ লক্ষ ২৭ হাজার শিশুকে ১ টি করে নীল রঙয়ের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১ কোটি ৯৫ লক্ষ ৭ হাজার শিশুকে ১টি করে লাল রঙয়ের ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান।

জাহিদ মালেক বলেন, গত কয়েকদিন আগে ভিটামিন এ ক্যাপসুলে কিছুটা ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা শিশুদের জন্য কোন ঝুকি নিতে চাইনি। ফলে সেই ক্যাপসুলগুলো আর ব্যবহার করিনি। তবে এবারের ভিটামিন ক্যাপশুলে আর কোন সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, সেই ঘটনায় আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে আমরা তা এখনো দেখিনি। তবে তাতে যারাই দোষি সব্যাস্ত হোক তাদের শাস্তি পেতে হবে।

তিনি বলেন, ঐ ভিটামিন ক্যাপসুল সাপ্লাইয়ে দেরি হওয়ায় এটা নিয়ে আদালতে মামলা হয়। মামলা নিশ্পত্তিতে প্রায় দেড় বছর লেগে যায়। তাকে এই ক্যাপশুল ড্যামেজ হয়ে যায়। তবে ক্যাপশুলের ভিতরে থাকা উপাদানের গুনগতমান ঠিক ছিল। কিন্তু বাড়তি শতর্কতার জন্য আমরা ঝুকি নিতে চাইনি। বলতে পারেন আমিই এই সিদ্ধান্ত দিয়েছিলাম।

মন্ত্রী বলেন, গেলবারের সেই বিতর্ক না তুলে এবার যাতে দেশের সব শিশু ভিটামিন এ ক্যাপসল খেতে আসে সেই জন্য আমরা আপনাদের (গণমাধ্যমের) সহযোগিতা চাই। আপনারা পজেটিভলি প্রচার করুন। এবার শুধুমাত্র দেশি ল্যাবে পরিক্ষা নয় বরং আন্তর্াতিক মানের ল্যাবেও পরিক্ষা করেছি। এবার ক্যাপশুলে কোন সমস্যা নেই।

মন্ত্রী বলেন, ভিটামিন এ খাওয়ানোর ফলে শিশু যে শুধুমাত্র রাতকানা রোগ থেকে রক্ষা পায় তা নয় এছাড়াও ভিটামিন এ শিশুদের আরো বহুবিধ উপকার করে। যেমন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, শিশুর মৃত্যুর হার কমায় , শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত, করে ডায়রিয়ার ব্যাপ্তিকাল এবং হাম এর জটিলতা কমায়। স্বাস্থ্য পুষ্টি সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পুষ্টি কার্যক্রম কে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ তাদের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে এই কার্যক্রমকে সফল করতে পারলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি অমিত সম্ভাবনাময় সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে পারবো।

তিনি বলেন, আমরা আর অপুষ্ট শিশু কে দেখতে চাই না। তেমনই চাইনা অপুষ্টিজনিত রাতকানা রোগ কিংবা অন্ধত্ব। বছরে দুইবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাইয়ে আমরা অন্ধত্ব প্রতিরোধ করতে পারি। শিশুর দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে পারি শিশুর মৃত্যুর হার ২৪ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারি।

তিনি বলেন, আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী সকলের কাছে আমার আবেদন ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন দিবসে একটি শিশুও যেন বাদ না পড়ে। উদ্দিষ্ট সকল শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় যাদের ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু আছে সেইসব মা-বাবা এবং অভিভাবকগণ যেন অবশ্যই সেবা গ্রহণ করবেন।

তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, টোল প্লাজা, বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু ব্রিজ , দাউদকান্দি, মেঘনা ব্রিজ, বিমানবন্দর, স্টেশন, খেয়াঘাট ইত্যাদি স্থানে অবস্থান করবে আমাদের টিম।