ভালো বাবা-মা হতে চাইলে কী করবেন!


১৬ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:৫৯

আপডেট:
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ১৭:০৩

ইন্টারনেট থেকে

সন্তানের পরিপূর্ণ বিকাশে বাবা-মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সব বাবা-মা–ই চান সন্তানের মঙ্গল হোক। কিন্তু তাঁদের এই চাওয়া পূরণ করতে গিয়ে সব সময় যে তাঁরা ঠিক কাজ করেন তা কিন্তু নয়— মনের অজান্তেই, সন্তানের মঙ্গল হওয়ার বদলে অনেক সময় তার বিকাশে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বাবা-মায়ের আচরণ। সন্তান যখন ছোট থাকে, তখন তার খাবার, ঘুম, জ্বর–সর্দি নিয়েই তাঁদের ভাবনা। আর সেই সন্তান যখন বড় হতে থাকে, তখন ভাবনাচিন্তার বিষয় গুলোও অনেকখানি বড় হয়ে যায়।

সন্তানদের এই বড় হওয়ার সময়টা বেশ সতর্কতার সাথে নাড়াচাড়া করতে হবে বাবা-মাকে। আর এজন্য তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে কিন্তু সন্তানের জন্মের পরপরই। যেটাকে বলা হয় সন্তান লালন–পালনের আদর্শ কৌশল। তাহলে সত্যিকার অর্থে ভালো মা–বাবা হতে চাইলে কী করতে পারেন!

ভালো বাবা-মা হতে চাইলে কী করবেন:

১. সবসময় সন্তানের প্রতি আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করুন।

২. সন্তানের কথাগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে শুনুন। কখনো তাকে তাচ্ছিল্য করবেন না।

৩. তার সাথে যতটুকু সময়ই থাকছেন না কেন সে সময়টুকু শুধু তাকেই দিন।

৪. সফলতার পাশাপাশি জীবনে ব্যর্থতাকেও মেনে নেওয়ার মতো করে তৈরি করুন তাকে। তার কোনো ব্যর্থতাকে সমালোচনা-বিদ্রূপ করবেন না।

৫. তার সামনে যে কোনো ধরনের অপরাধ করা বা অপরাধের পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাকে সবসময় নৈতিকতার শিক্ষা দিতে হবে।

৬.তার ওপর অযথা বেশি চাপ প্রয়োগ করবেন না। যেমন-‘তোমাকে এটা পারতেই হবে’, এ ধরনের লক্ষ্য নির্ধারণ তাকে দেবেন না।

৭. তাকে কোনো অবস্থাতেই মারবেন না, তীব্র কটাক্ষ করে বকবেন না, তাকে সবসময় বুঝিয়ে বলুন।

৮. অন্য কারও সাথে সন্তানের তুলনা করবেন না।

৯. গোপন নজরদারি করবেন না, প্রয়োজনে তার সাথে সরাসরি কথা বলুন।

১০. তার ভালো কাজের প্রশংসা করুন।

১১. সন্তানের সাথে ক্যারাম বা লুডুসহ বিভিন্ন খেলা খেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারের সবাই মিলে বেড়াতে যান।

১২. সন্তানের মোবাইল ফোন ব্যবহার সীমিত করুন। প্রয়োজনে আপনি নিজেও মোবাইল ফোন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমিয়ে দিন।

১৩. পরিবারে সবাই অন্তত একবেলা একসাথে বসে খাদ্য গ্রহণ করুন। সন্তানকে নিজের হাতে খেতে উৎসাহিত করুন।

১৪. সন্তানকে কখনোই একই আদেশ বা নির্দেশ বারবার দেবেন না।

১৫. তার বন্ধুদের গুরুত্ব দিন। তার ভালো বন্ধুদের সাথে মিশতে উৎসাহিত করুন। তবে পরিষ্কার ধারণা রাখুন সে কাদের সাথে কোথায় যাচ্ছে, কার বাসায় রাত কাটাচ্ছে।

১৬. স্কুলগামী সন্তানের স্কুলের বই তাদেরই পড়তে দিন। স্কুলের বই–ব্যাগ তাকেই সাজাতে দিন। স্কুল থেকে সে যেন নিজের পড়া নিজেই তুলে নিয়ে আসে। তার বই-ব্যাগ গোছানো থেকে বিরত থাকুন, স্কুলের পড়া আপনি সংগ্রহ করবেন না।

১৭. সন্তানের সামনে পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যদের সমালোচনা করা থেকে বিরত থাকুন। বাবা-মা একে অপরকে ব্যঙ্গ–বিদ্রূপ বা নিন্দা করবেন না, তর্কে জড়াবেন না।

১৮. বয়স অনুযায়ী তার শারীরিক পরিবর্তন আর নিরাপত্তা নিয়ে ধারণা দিন।

১৯. সন্তানের আচরণে কোনো পরিবর্তন বা অস্বাভাবিকতা লক্ষ করলে মনোবিদ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

২০. তাকে অহেতুক সন্দেহ করবেন না।

কান্ট্রিনিউজ২৪/এএইচ