‘টাকা নিয়ে বসে আছি, নিয়ে যান’


প্রকাশিত:
৬ জানুয়ারী ২০১৯ ১০:২৮

Print Friendly and PDF
দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

“জমি আছে কিন্তু বাড়ি করার টাকা নেই, যেতে চান না ডেভেলাপারের কাছেও। কিংবা বাড়ি করেছেন দুই তলা, পরিকল্পনা আছে সাত তলা করার কিন্তু পারছেন না। আবার অনেকের বাড়ি পুরাতন হয়ে গেছে সেটিও মেরামত করাতে পারছেন না। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনার পাশে আছে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন-বিএইচবিএফসি। বাড়ি নির্মাণ করা থেকে শুরু করে মেরামত করার টাকাও দেবে সরকারি সংস্থাটি। কম সুদের হারে সহজ শর্তে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে বিএইচবিএফসি। প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাস বন্ধু’ নামেও রয়েছে একটি প্রকল্প।”

জনগণের সেবায় নিত্যনতুন প্রকল্প গড়ে জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছাতে চায় হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন। পূর্বের দোষত্রুটি শুধরে একেবারে ডিজিটালাইজড সিস্টেমে এগিয়ে চলেছে সংস্থাটি। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী যোগদানের পরই মূলত গতি পায় এ সংস্থা। নিজস্ব কিছু ভাবনায় ৬টি নতুন প্রকল্প খুলে তাতে সাড়াও মিলছে। এরইমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে তা ছাড়িয়েও গেছে।

দেবাশীষ চক্রবর্তী বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদানের আগে রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

তিনি যোগদানের পর থেকে ঢেলে সাজানো হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স ছয় ক্যাটাগরিতে ঋণ প্রদান করছে।

হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের সার্বিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা হয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তীর সঙ্গে।

বিএইচবিএফসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। কর্পোরেশনকে ডিজিটালাইজড করে ভোগান্তি কমিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগড়ায় নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে। যোগদানের পরপরই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ঠিক করে নিজস্ব ভাবনায় ৬টি ক্যাটাগরি আমরা নির্ধারণ করি। ক্যাটাগরিগুলো হলো- নগর বন্ধু, প্রবাস বন্ধু, আবাসন উন্নয়ন, আবাসন মেরামত, ফ্ল্যাট ঋণ ও পল্লীমা। ক্যাটাগরিগুলো নির্ধারণ করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। এর ফলাফলও ভালো আসছে।”

ক্যাটাগরিগুলো হলো

নগরবন্ধু: ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে "একক/যৌথভাবে বাড়ি নির্মাণ" অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।

সর্বোচ্চ ঋণসীমা: বাড়ি নির্মাণে সর্বোচ্চ ১ কোটি এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা।

সুদের হার: বাড়ি নির্মাণে ৯.৫০% এবং ফ্ল্যাট ক্রয়ে: ১০%। পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫ বা ২০ বছর।

পল্লীমা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকার বাইরে যেকোন জেলা/উপজেলা, গ্রোথসেন্টারে একক/গ্রুপে বাড়ি নির্মাণ অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।

সুদের হার: বাড়ি নির্মাণে ৮.৫০% এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে: ১০%। পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫ বা ২০ বছর।

আবাসন উন্নয়ন: বিদ্যমান ভবনের অসমাপ্ত ফ্লোর নির্মাণে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সরল সুদে গৃহঋণ সেবা। সুদের হার: ঢাকা/চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায়: ৯.৫০%, অন্যত্র: ৮.৫০%।

পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫ বা ২০ বছর

আবাসন মেরামত: বিদ্যমান ভবন সংস্কারে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।

সুদের হার: ঢাকা/চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায়: ৯.৫০%, অন্যত্র: ৮.৫০%।

পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫ অথবা ১০ বছর।

প্রবাসবন্ধু: প্রবাসীদের জন্য সারাদেশে একক/গ্রুপে বাড়ি নির্মাণ অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।
সুদের হার: বাড়ি নির্মাণে ঢাকা/চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায়:৯.৫০%, অন্যত্র: ৮.৫০% এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে: ১০%।
পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫,২০ অথবা ২৫ বছর।

ফ্ল্যাট ঋণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মেট্রোএলাকাসহ যেকোন জেলা/উপজেলা, গ্রোথসেন্টারে একক/গ্রুপে বাড়ি নির্মাণ অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।

সুদের হার ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকা মেট্রো এলাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরে ১০%, পেরি আরবান, উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টার এলাকায় ৯%।

পরিশোধ মেয়াদকাল : ৫,১০,১৫,২০ অথবা ২০ বছর।

গ্রাহকদের ইঙ্গিত করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলে টাকা নিয়ে বসে আছি। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা ঋণ দিচ্ছি। নিয়ে যান।

দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী বলেন, “হাউস বিল্ডিং সম্পর্কে মানুষের ধারণা পাল্টে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগে সারাদেশে ২৯টি অফিস থাকলে আরও ৭১টি অফিসের অনুমোদন পাওয়া গেছে। শিগগিরিই আরো ৭১টি অফিস খোলা হবে। মানুষের খুব কাছে যেতেই আমাদের এই পরিকল্পনা।”

তিনি বলেন, “বর্তামান ডিজিটালাইজেশনের যুগে আমরাও পিছিয়ে নেই। আমাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটের পাশাপাশি ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানে লোকজন নানা প্রশ্ন করছেন আমরা সেগুলোর জবাব দিচ্ছি। আমরা কল সেন্টারও খুলতে যাচ্ছি।”

তিনি আরো বলেন, “দেশ ও দেশের বাইরে আবাসন মেলাও করছি। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে রিহ্যাবের সঙ্গে মেলাও আমরা মেলা করবো। সার্বিকভাবে মানুষের আবাসন সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই আমরা করবো।” 

গ্রাহকের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনাদের সেবা করার জন্যই সরকার আমাদের এখানে নিয়োগ দিয়েছে। আপনাদের টাকা দেয়ার জন্যই বসে আছি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এসে বৈধ পন্থায় টাকা নিয়ে যান।”

কান্ট্রিনিউজ২৪/এমআর