জমছেই না এবারের বিপিএল


৮ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:০৯

আপডেট:
৮ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:১৬

অনেকটা নিরবেই শুরু হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ (বিপিএল)। ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিপিএল নিয়ে যে উন্মাদনা থাকার কথা তা দেখা যাচ্ছে না। সাদামাটা আয়োজন, প্রচারণা অভাবসহ রয়েছে নানা অভিযোগ।

তাছাড়া ভরদুপুরে দিনের প্রথম ম্যাচ শুরুতে দর্শকদের পড়তে হচ্ছে বেশ ভোগান্তিতে। গ্যালারিতে বাইরের কোন খাবার নিয়ে প্রবেশে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। গ্যালারিতে ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোতে অনেক গুণ বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে খাবার। সকাল সাড়ে বারোটা থেকে শুরু ম্যাচ দেখতে হলে স্টেডিয়াম এলাকায় আসতে হচ্ছে আরো সকালে। তাছাড়া মিরপুরের মেট্রোরেলের জন্য সড়কে সৃষ্ট হয় যানজট। ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে স্টেডিয়ামে পৌচ্ছাতে নির্ধারিত সময়ের থেকে অনেক বেশি সময় লাগছে। মূলত একারণে দিনের প্রথম ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শক কম হচ্ছে। ঘরে বসে যারা টেলিভিশনে চোখ রাখছেন তাদের পক্ষ থেকেও আছে নানা অভিযোগ, নিন্ম মানের ধারাভাষ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে স্বল্পতা।

বিপিএল আয়োজনে নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে টিভি সম্প্রচারের মান নিয়েও। ডিসিশান রিভিউ সিস্টেম প্রযুক্তি নিয়েও তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। এসব সমস্যা স্বীকার করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ সোহেল কান্ট্রিনিউজকে জানান, আগামী সপ্তাহ থেকে ভুলগুলো অতিক্রম করে জমে উঠবে এবারের আসর।

এদিকে, সরকারীভাবে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার নাম পরিবর্তন হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি দু'টিকে নাম পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে গভর্নিং কাউন্সিল। সরকারি নির্দেশনা মেনে ফ্র্যাঞ্চাইজি দুটির নাম পরিবর্তন করা উচিত বলে মনে করেন শেখ সোহেল।

অনেকটা নীরবেই শুরু হয়েছে বিপিএল। প্রচারণাও হয়নি এবার। প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়ও পায়নি দলগুলো। যার প্রভাব পড়েছে মাঠে। মিরপুরে দর্শক আগ্রহে দেখা যাচ্ছে ভাটা। গভর্নিং কাউন্সিল বলছে, নির্বাচনের কারণে প্রত্যাশিতভাবে শুরু করা যায়নি বিপিএল ৬ষ্ঠ আসর।

এবার সম্প্রচারের দায়িত্ব নিয়েছে বিসিবি নিজেই। প্রশ্ন উঠেছে মান নিয়ে। ডিসিশান রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস নিয়েও তৈরি হচ্ছে বিতর্ক। নেই স্নিকো মিটার ও আল্ট্রা এজ প্রযুক্তি। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আম্পায়ারদের। তবে গভর্নিং কাউন্সিল মনে করছে, প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সব কিছুর সমাধান হবে বলে আশা করছেন তারা।

মিরপুরের একাডেমি মাঠে অনুশীলনের চাপ কমাতে দলগুলোকে নিজস্ব মাঠ তৈরির তাগিদ দিয়েছে গভর্নিং কাউন্সিল। মাঠে দর্শক টানতে অনলাইনে আরো বেশি টিকিট ছাড়ার পরিকল্পনাও আছে কাউন্সিলের।

নতুন প্রতিভাবান ক্রিকেটার খোঁজার মঞ্চের সাথে এই বিপিএলের সাথে মিশে আছে দেশের মান।  সেই আয়োজনের এর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সব কষ্টে কর্মকান্ডে পড়ে যায় দাগ। সেই দাগ মেটাতে আয়োজক কমিটিকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করেন দেশের ক্রিকেট বিশেজ্ঞরা।