অশ্বগন্ধা কেন খাবেন!


১১ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:১৫

আপডেট:
১৬ জানুয়ারী ২০১৯ ১৭:৩৪

ইন্টারনেট থেকে

অশ্বগন্ধা একটি ভেষজ উদ্ভিদ। এই গাছের পাতা সেদ্ধ করলে ঘোড়ার মূত্রের মতো গন্ধ তৈরি হয় এজন্য একে অশ্বগন্ধা বলে হয়। এই পাতার বৈজ্ঞানিক নাম ‘উইথানিয়া সোমনিফেরা (এল) ডুনাল’। এ গাছের মূল এবং পাতা স্নায়ুর বিভিন্ন রোগে ব্যবহৃত হয়। এই গাছ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকায় পাওয়া যায়। ঘুম আনার ওষুধ হিসাবে প্রাচীন মেসোপটেমিয়া এবং মিশরে এর ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর মূল, পাতা, ফুল, ফল, ছাল, ডাল সবই ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়।

অশ্বগন্ধা একটি অবিশ্বাস্য ধরনের ঔষধী গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ যা আমদের পরিবারের সকলের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অতুলনিয় ভুমিকা পালনে সক্ষম । এ উদ্ভিদ মানব দেহের নিম্নোক্তরোগ গুলি নিরাময় করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
১। আন্ডার একটিভ থাইরয়েড প্রবলেম।
২। এড্রানালিন ফ্যটিগ দুর করে। অ্শ্বগন্ধা প্রচুর এন্টিওক্সিডেন্ট দেয়।
৩। স্ট্রেস এবং এংজাইটিস নির্মুল করে এবং প্রাকৃতিক ভাবে চুল পড়া কমায়।
৪। ডিপ্রেসন দুর করে এবং প্রাকৃতিক ভাবে ঘুম বাড়ায়।
৫। সকল বয়সিদের ডায়াবেটিস হওয়া থেকে প্রতিরোধ করে। ডায়াবেটিস রোগিদের সুগার প্রাকৃতিক ভাবে নিয়ন্ত্রন করে এবং ইনসুলিন ও ঔষধের উপর নির্ভশিলতা কমায়।
৬। ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং নিরাময়ে চমৎকার ভেষজ ঔষধ হিসেবে কাজ করে। পৃথিবীর অনেক দেশে ক্যনসার চিকিৎসায় এর ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।
৭। আমদের ব্রেইন সেল ডেমেজ কমায়। স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। নিউরোডিজেনারেটিভ রোগ যেমন, আলঝাইমার, পারকিনসন্স রোগ প্রতিরোধে ভাল কাজ করে। ষ্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেয় এবং ষ্ট্রোকের পরবর্তি সমস্যাগুলি সারিয়ে তুলতে চমতকার ভাবে কাজ করে।
৮। ইমিউন সিষ্টেম এবং ফাংকশন কে আরো তরান্বিত করে সাথে সাথে আমদের কিডনিকে ও লিভারকে সু রক্ষা দেয়।
৯। শরীরের শক্তি বা স্টেমিনা এবং এনডিউরেন্স বাড়ায়।
১০। মাসল বৃদ্ধি করে এবং মাসল এর শক্তি বাড়ায়।
১১। বীর্য এবং শুক্রাণুর মান বাড়িয়ে দিয়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যকে স্বাচ্ছ্যন্দ এনে দেয়।
১২। হার্টের স্বাস্থ্যকে সমুন্নত রাখে।
১৩। যে কোন ধরনের ইনফেকশন থেকে শরীরকে রক্ষা করে।
১৪। শিশুর শারিরিক বৃদ্ধি তরান্বিত করে। শিশুর হাড় ও মাসল গঠনে অশ্বগন্ধা অনন্য ভুমিকা রাখে। শিশুকে প্রয়োজনিয় নিউট্রিয়েন্টস এর যোগান দিয়ে শিশুর ইমিউন সিষ্টেম বাড়িয়ে দেয়।এবং শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
১৫। মহিলাদের পিসিওএস রোগ নিরাময় এবং প্রতিরোধ করে এবং ইরেগুলার পিরিয়ড, ডিপ্রেসন, অতিরিক্ত ওজন, ইনসোমনিয়া এবং সর্বোপরি বন্ধাত্য নিরাময়ে চমৎকার কাজ করে।

অশ্বগন্ধা ক্যাপসুল হলে রাতে ঘুমানোর আগে ১ টা। চূর্ণ বা পাউডার হলে ১/২ চা চামচ দিয়ে শুরু করবেন, পরে ১ চা চামচ নিবেন। লিকুইড হলে ১ চা চামচ। ভালো রেজাল্ট পেতে দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। অথবা পানিতে গুলিয়ে খেতে পারেন।

কান্ট্রিনিউজ২৪/এএইচ