নতুন ব্যাংকের শীর্ষে মধুমতি


১০ জানুয়ারী ২০১৯ ২০:৫২

আপডেট:
১০ জানুয়ারী ২০১৯ ২০:৫৯

নানা বির্তকের মধ্যে ২০১২ সালে চতুর্থ প্রজন্মের নতুন নয়টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সে বির্তক এখনও কাটেনি। বিগত সময়ে ফারমার্স ব্যাংকের নানা অনিয়ম সেই বির্তককে আরও উস্কে দিয়েছিল। এরপরেও নতুন ব্যাংকের মধ্যে বেশ কয়েকটি খুব ভাল করছে। এর মধ্যে মধুমতি ব্যাংক সবার শীর্ষে রয়েছে। নির্বাচনী বছর হওয়ায় আর্থিক খাতে নানা দু:শ্চিন্তার মধ্যেও ২০১৮ সালে নতুন ব্যাংকের মধ্যে সর্বাধিক পরিচালন মুনাফা করেছে মধুমতি। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে যথাক্রমে সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক (এসবিএসি) ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

জানা গেছে, বিগত ২০১৮ সালে নতুন নয়টি ব্যাংকের মধ্যে আএনআরবি গ্লোবাল, মেঘনা এবং ফারমার্স ব্যাংক ছাড়া সব ব্যাংকই পরিচালন মুনাফা করেছে। ফারমার্স ব্যাংক ছাড়া অন্য ৮টি ব্যাংক ২০১৮ সালে তাদের পরিচালন মুনাফা এক হাজার ২৭৬ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৮ সালে যথাক্রমে মধুমতি ব্যাংক ২৫.৮৮ শতাংশ, সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ১১.২২ শতাংশ, ইউনিয়ন ব্যাংক ৯.৯২ শতাংশ, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ৯.৩৫ শতাংশ, এনআরবি ব্যাংক ৬.৬০ শতাংশ এবং মিডল্যান্ড ব্যাংক ৪.৮ শতাংশ মুনাফা বেড়েছে। তবে মেঘনা ও এনআরবি গ্লোবাল মুনাফা করলেও গত বছরের তুলনায় কম। মেঘনা ১১.৪২ শতাংশ, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ৩১.৬৭ শতাংশ নেতিবাচক মুনাফা প্রবৃদ্ধি করেছে। এবং ফারমার্স ব্যাংক লোকসানে রয়েছে।

মধুমতি ব্যাংকের সফলতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিউল আযম কান্ট্রিনিউজকে জানান, মধুমতি ব্যাংক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজটি করেছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সময়। অভিজ্ঞ লোক নিয়োগ দিয়েছে। অত্যন্ত দক্ষ একদল কর্মী কাজ করছে এখানে। তারা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে। বিশেষ করে ঋণ দেওয়ার সময় খুবই সর্তকতা অবলম্বন করেছে। ফলে মন্দ ঋণ খুবই কম। আগে থেকেই একটা বিতর্ক ছিল নতুন ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকগুলো দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

শফিউল আযম বলেন, মধুমতি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ফলে মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরণের বিল দিতে পারছে। গ্যাস-পানিসহ নানা ধরণের সেবা দান করে তাদের বিল দিতে আসছে। বিভিন্ন উদ্বাবনী ব্যাংকিং নিয়ে কাজ করছে মধুমতি ব্যাংক। ফলে আগামী দিন আরও সফলতা বয়ে আনবে মধুমতি ব্যাংক। এছাড়া মধুমতি ব্যাংক নিয়ে কোনো নেতিবাচক প্রচারণা নেই। ফলে গ্রাহকরাও আস্থা পাচ্ছেন। আমানত রাখছেন।

নতুন ব্যাংকগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো করেছে মধুমতি ব্যাংক। ২০১৮ সালে মধুমতি ব্যাংকের মুনাফা ৫১ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৭ কোটি টাকায়। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ১৪৬ কোটি টাকা।

চতুর্থ প্রজন্মের সাউথ-বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ২০১৮ সালে ২০৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে, এর আগের বছরে ব্যাংকের মুনাফা ছিল ১৮২ কোটি টাকা। সে হিসেবে চলতি বছরে ব্যাংকের মুনাফা বেড়েছে ২৩ কোটি টাকা।

২০১৮ সালে মিডল্যান্ড ব্যাংকের মুনাফা ১২৫ কোটি টাকা, যা ২০১৭ সালে ছিলো ১১৯ কোটি টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির ৬ কোটি টাকা বেশি মুনাফা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় মেঘনা ব্যাংকের পরিচালনা মুনাফা ১১ কোটি টাকা কমেছে। এ বছর ব্যাংকটি ৯৩ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, যা ২০১৭ সালে তারা ১০৪ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল।

ইউনিয়ন ব্যাংকের ২০১৮ সালের মুনাফা বেড়েছে। এবছর ব্যাংকটি ২৫২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। যা ২০১৭ সালে ২২৭ কোটি টাকা ছিল। অর্থাৎ ব্যাংকটির এ বছর পরিচালনা মুনাফা ২৫ কোটি টাকা বেশি হয়েছে।

২০১৮ সালে এনআরবি ব্যাংক মুনাফা ৮৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ কোটি টাকায়। ২০১৭ সালে তারা ৮৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল। সে হিসেবে এবছর ব্যাংকটি ৬ কোটি টাকা বেশি মুনাফা করেছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ২০১৮ সালে মুনাফা করেছে ১১০ কোটি টাকা। যা ২০১৭ সালে ছিলো ১৬১ কোটি টাকা। সে হিসেবে ব্যাংকটির পরিচালনা মুনাফা কমেছে ৫১ কোটি টাকা।

২০১৮ সালে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালনা মুনাফা ১৯ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৩ কোটি টাকায়। যা ২০১৭ সালে ব্যাংকটির মুনাফা ছিলো ১৮৪ কোটি টাকা।

রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০১২ সালে অনুমোদন দেয়া হয় ৪র্থ প্রজন্মের ৯ নতুন ব্যাংককে। ছয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছেন দেশীয় উদ্যোক্তরা। এগুলো হলো- ইউনিয়ন, মেঘনা, মিডল্যান্ড, মধুমতি, দ্য ফারমার্স ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক। বাকি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে ব্যাংক রয়েছে তিনটি- এনআরবি, এনআরবি গ্লোবাল ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক।

কান্ট্রিনিউজ২৪/এমএস