বাধ্যতামূলক হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট


৫ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:১০

আপডেট:
৫ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:১০

ইন্টারনেট থেকে

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আওয়ামী লীগ সরকার গত দুই মেয়াদ ধরে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে গত দুই মেয়াদে চেষ্টা করেও সরকার সব ব্যাংককে এসব সেবা চালু করাতে পারেনি। তাই নতুন মেয়াদে এসেই সরকার বাংলাদেশ ব্যাংককে কঠোর নির্দেশনা দিবে, যাতে সবগুলো ব্যাংক এসব সেবা চালু করতে বাধ্য হয়। আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারনী পর্যায় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইতিমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। এসব সেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন ধরণের কেনাকাটা করছে। রেল-বাস-বিমানের টিকেট ক্রয়, পাসপোর্টের ফি প্রদান, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ও ই-কমার্স সাইটে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা দিচ্ছে অনেক ব্যাংক। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এসব বিষয়ে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে নতুন সরকার বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিবে।

জানা গেছে, প্রতিনিয়ত জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং। সেই সাথে ব্যাংকগুলোতে ডিজিটাল পেমেন্টেও ভালো অবস্থান তৈরি হয়েছে। এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিনিয়ত গড়ে হাজার কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হচ্ছে। ব্যাংকগুলো যাতে মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং করতে বাধ্য হয় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে সরকার। সরকারের ডিজিটাল ব্যাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব ব্যাংককে মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নবগঠিত সরকার ব্যাংকগুলোকে কোন ধরণের ছাড় দিবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের ১৮টি ব্যাংকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু রয়েছে। ব্যাংকগুলো তাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে এক হাজার কোটি টাকার উপরে লেনদেন করে থাকে। ব্যাংকগুলোতে যত কম ক্যাশ পেমেন্ট করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই সাথে ক্যাশলেস (নগদ টাকাবিহীন) সমাজ গড়ার চেষ্টা করছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম কান্ট্রিনিউজকে বলেন, আমাদের দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বয়সের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে যে আমরা ভালো সাফল্য অর্জন করেছি। মাত্র ৭ বছরের ব্যবধানে মোবাইল ব্যাংকিং এখন অনেক জনপ্রিয়। ব্যাংকগুলোকে ক্যাশলেস করার চেষ্টা করছি। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, কোন কিছু কিন্তু রাতারাতি হয় না। এ জন্য সময় প্রয়োজন।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমি মোবাইল ও ডিজিটাল ব্যাংকিং বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে বলবো না। তবে ক্যাশলেস সমাজ গড়ার জন্য যে প্রণোদনাগুলো দিলে গ্রাহকরা ক্যাশ প্রেমেন্ট থেকে ডিজিটাল প্রেমেন্টে আসে সে বিষয়ে কাজ করছি।

দেশে ২০১১ সালে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরু হলেও এ ব্যাংকিংয়ের কোন নীতিমালা ছিলো না। গতবছর ৩০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) রেগুলেন্স-২০১৮ শীর্ষক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা অনুমোদন, নিয়ন্ত্রণ ও কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে একটি নীতিমালা জারি করে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ব্যাংক চাইলে এমএফএস কোম্পানি করতে পারবে। সেক্ষেত্রে ব্যাংকের কমপক্ষে ৫১ শতাংশ মালিকানা থাকতে হবে। তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোন ধরণের ঋণ সংক্রান্ত কোন কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। তবে কোনো ব্যাংকের অনুমোদনকৃত ঋণ মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ এবং কিস্তি আদায় করা যাবে।

গ্রাহকের একাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন ছাড়া অন্য কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না। কোন অবস্থাতে এজেন্টদের তৃতীয় পক্ষ হিসেবে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করতে পারবে না। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ এমএফএসের লাইসেন্স দেবে। গ্রাহকের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কাজ সংগঠিত হলে লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কান্ট্রিনিউজ২৪/এমএস