সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার, পুঁজিবাজারে ভাটা


৩ জানুয়ারী ২০১৯ ১৪:৪৩

আপডেট:
৩ জানুয়ারী ২০১৯ ১৯:৩৯

ইন্টারনেট থেকে

সারাদেশে উন্নয়ন, পুঁজিবাজারে ভাটা। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। বর্তমান সরকারের অধীনে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার চলছে। অথচ শিল্প-বাণিজ্যে অর্থ যোগানের অন্যতম উৎস পুঁজিবাজারে ভাটা। গত একবছর তথা ২০১৮ সালের সার্বিক বিশ্লেষনে দেখা গেছে- আগের বছরের চেয়ে বাজার মূলধন, লেনদেন, সূচক কমেছে। অন্যদিকে কোম্পানিরগুলোর মূল্য ও আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে, যা বাজারকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারী, বাজার সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা আগামী মেয়াদে পুঁজিবাজারও যোগ্য নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বার্ষিক তথ্য বিশ্লেষনে দেখা গেছে, আগের বছরের চেয়ে বাজার মূলধন, লেনদেন, সূচক কমেছে। অন্যদিকে কোম্পানিরগুলোর মূল্য ও আয়ের অনুপাত (পিই রেশিও) বেড়েছে।

লেনদেন: ডিএসইতে ২০১৮ সালে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় এক লাখ ৩৩ হাজার ৫৯১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা গতবছরের চেয়ে ৮৩ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা বা ৩৮.৪৩ শতাংশ কম৷ ২০১৮ সালে ২৪২ কার্যদিবসে গড়ে লেনদেন হয় ৫৫২ কোটি ০৩ লাখ টাকা৷ অপরদিকে ২০১৭ সালে ২৪৮ কার্যদিবসে মোট লেনদেনের পরিমান ছিল দুই লাখ ১৬ হাজার ৯৫৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা এবং গড়ে লেনদেনের পরিমান ছিল ৮৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা৷

ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স): ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের বছরের চেয়ে ৮৫৮.৮৮ পয়েন্ট বা ১৩.৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫৩৮৫.৬৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়৷ ২০১৮ সালে ডিএসইএক্স মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ৬,৩১৮.২৭ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৫২০৪.৩৬ পয়েন্ট৷ ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ৪,০৯০.৪৭ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়৷

ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০): ডিএসই ৩০ সূচক (ডিএস৩০) ৪০২.৪৪ পয়েন্ট বা ১৭.৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৮৮০.৭৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়৷ ২০১৮ সালে ডিএস৩০ মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ২৩০৪ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১৮৩৬.২৫ পয়েন্ট৷ ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ১৪৭৩.০১ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়৷

ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সূচক (ডিএসইএস): একই বছর ডিএসইএক্স শরীয়াহ্ সুচক (ডিএসইএস) ১৫৭.৮৫ পয়েন্ট বা ১১.৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১২৩২.৮২ পয়েন্টে উন্নিত হয়৷ ২০১৮ সালে (ডিএসইএস) মূল্য সূচক সর্বোচ্চ ১৪৩৩.১৭ পয়েন্টে উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ১২০০.৪৩ পয়েন্ট৷ ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি ৯৪১.২৮ পয়েন্ট নিয়ে এ সূচকের যাত্রা শুরু হয়৷

বাজার মূলধন: সূচকের পাশাপাশি ডিএসই’র বাজার মূলধনও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে৷ ডিএসই বাজার মূলধন আগের বছরের তুলনায় ৩৫ হাজার ৫৯৯ কোটি টাকা বা ৮.৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে৷ ২০১৮ সালে বাজার মূলধন সর্বোচ্চ ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নিত হয় এবং সর্বনিম্ন ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার কোটি৷

মার্কেট পিই: ২০১৮ সালের শেষ দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের এ তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজসমুহের মূল্য-আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই দাঁড়ায় ১৫.০৯৷ অপরদিকে ২০১৭ সালের শেষ দিনে মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ছিল ১৪.২৯৷ খাতওয়ারী মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মার্কেট পিই ৬.৮৯, ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাতের ১৩.৯৭, ব্যাংকিং খাতের মার্কেট পিই ৯.০৯, ইন্সুরেন্স খাতের মার্কেট পিই ১১.৭৪, আথিক খাতের পিই ১৩.৯৮ এবং টেক্সটাইল খাতের মার্কেট পিই ১৭.০৯৷ সামগ্রিক বাজার মূল্য আয় অনুপাত বা মার্কেট পিই ১৫.০৯৷

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক ও সার সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ আতাউর রহমান কান্ট্রিনিউজকে বলেন, ২০১৮ সাল ছিল নির্বাচনী বছর। ফলে বিনিয়োগকারীরা পর্যবেক্ষন করছিল- রাজনৈতিক অবস্থা কি হয়। যেহেতু সরকারের ধারাবাহিকতা থাকছে। দেশের উন্নয়ন হবে। পুঁজিবাজারের উন্নতিও হবে। তাছাড়া ২০১৮ সালে বিশ্বজুড়েই পুঁজিবাজারে মন্দাভাব ছিল। আমরা যেহেতু এর বাইরে না। বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। তাই বাজার পরিস্থিতি খারাপ ছিল। ২০১৯ সালে সালে আমরা আশাবাদি।

কান্ট্রিনিউজ২৪/এমএস