বিএনপির কাছে ৬০ আসন চাইবে জামায়াত


নিজস্ব প্রতিবেদক

Published: 2018-11-13 13:04:32 BdST | Updated: 2018-12-19 05:04:19 BdST

ফাইল ফটো

স্বতন্ত্র না ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন এই সিদ্ধান্তে এখনো আসতে পারেননি জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তবে সংগঠনটির বেশিরভাগ নেতাই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার পক্ষে। এ অবস্থায় জামায়াত তাদের জোটসঙ্গী বিএনপির কাছে ৬০টির মতো আসন চাইবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘স্বতন্ত্র না ধানের শীষ কোন প্রতীকে আমরা নির্বাচন করবো, তা দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেবো।’

২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়তকে ৩৫ আসনে ছাড়সহ আরো চারটি আসন উন্মুক্ত করে দিয়েছিল বিএনপি। এ প্রসঙ্গে গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘এবার এরচেয়ে বেশি আসন চাইব। তবে কতটা, তা এখনই বলা যাবে না।’

এ নিয়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, ২০-দলীয় জোটের বাইরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও রয়েছে তাদের সঙ্গে। সে ক্ষেত্রে সবাইকেই ম্যানেজ করে চলতে হবে। তাই যেসব আসনে জামায়াতে ইসলামী পাস করবে বলে মনে হবে, সেখানে তাদের ছাড় দেওয়া হতে পারে। তার পরও ২০টির বেশি আসন তাদের কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব হবে না।

এদিকে সংসদ নির্বাচনে ৫১ সদস্যের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা করেছে জামায়াতে ইসলামী। যা জামায়াতের একটি সূত্র নিশ্চিত করে জানিয়েছে, জামায়াত এর বাইরেও ৫০ টিরও অধিক আসনে নির্বাচন করার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

এদিকে জানা যায়, যে সব আসনে জামায়াত প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে এর অধিকাংশ আসনেই জামায়াতের ঘাঁটি বলে পরিচিত। বিশেষ করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর যে সহিংসতা হয়েছিলো এই আসনগুলো তার নেতৃত্ব দিয়েছে।

নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, যশোর, পিরোজপুরের যেসব আসনে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী দেবে বলে চূড়ান্ত করেছে সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে জামায়তের নির্বাচনী বেল্ট বলে পরিচিত ছিলো। এসব স্থানে ২০১৪ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

যে ৫১ আসনে জামায়াত প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে সেগুলো হলো-

ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর): মাওলানা আবদুল হাকিম; দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল): মাওলানা আবু হানিফ; দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর): মাও আফতাব উদ্দিন মোল্লা; দিনাজপুর-৬ (নবাবগঞ্জ-বিরামপুর-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট): আনোয়ারুল ইসলাম; নীলফামারী-২ (সদর) মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু।

নীলফামারী-৩ (জলঢাকা): মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম; লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতিবান্ধা): আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন সাজু; রংপুর-৫ (মিঠপুকুর): অধ্যাপক গোলাম রব্বানী; গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ): অধ্যাপক মাজেদুর রহমান; গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী): মাওলানা নজরুল ইসলাম; গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্ধগঞ্জ): ডা. আবদুর রহীম; জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি): ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ; বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ): অধ্যক্ষ শাহাদাতুজ্জামান; বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম): অধ্যক্ষ মাও. তায়েব আলী; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) ড. কেরামত আলী; চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর): নুরুল ইসলাম বুলবুল; রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী -তানোর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান; নওগাঁ-৪ (মান্দা): খ ম আবদুর রাকিব।

সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া-সলঙ্গা): মাও রফিকুল ইসলাম খান; সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালি): অধ্যক্ষ আলী আলম; পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া): ব্যারিষ্টার নাজিব মোমেন; পাবনা-৫ (সদর): প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন; কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) মুহাম্মদ আবদুল গফুর; চুয়াডাঙ্গা-২ (দামুড়হুদা-জীবন নগর): মোহাম্মদ রুহুল আমিন; ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর): অধ্যাপক মতিয়ার রহমান; যশোর-১ (শার্শা): মাওলানা আজিজুর রহমান; যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন; যশোর-৬ (কেশবপুর)- অধ্যাপক মুক্তার আলী; বাগেরহাট-৩ (মংলা-রামপাল): অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ; বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ-সরনখোলা): অধ্যাপক আবদুল আলীম; খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া): অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার; খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা): মাও আবুল কালাম আযাদ; সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া-তালা): অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লাহ; সাতক্ষীরা-২ (সদর): মুহাদ্দিস আবদুল খালেক; সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-দেবহাটা): মুফতি রবিউল বাশার; সাতক্ষীরা-৪ (কালিগঞ্জ-শ্যামনগর): গাজী নজরুল ইসলাম।

এছাড়া পিরোজপুর-১ (সদর -নাজিরপুর-স্বরূপকাঠি): শামীম সাঈদী; পটুয়াখালী-২ (বাউফল): ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ; শেরপুর-১ (সদর): হাসান ইমাম ওয়াফি; ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া): অধ্যাপক জসিম উদ্দিন; ঢাকা-১৫ (কাফরুল-মিরপুর): ডাঃ শফিকুর রহমান; সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট): মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী; সিলেট-৬ (বিয়ানিবাজার-গোলাপগঞ্জ): মাওলানা হাবিবুর রহমান; কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-সদর দক্ষিণ-লালমাই): মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত; কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম): ডা.সৈয়দ আবদুল্লাহ মো.তাহের; ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভুঞা): ডা.ফখরুদ্দিন মানিক; লক্ষীপুর-২ (রায়পুর-সদর আংশিক): মাস্টার রুহুল আমীন; চট্টগ্রাম-১০ (ডাবলমুরিং): আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী; চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া): মাওলানা শামসুল ইসলাম; চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী): মাওলানা জহিরুল ইসলাম; কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী): হামিদুর রহমান আজাদ।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতকে ৩৫টি আসন দেয় এবং বিএনপি জামায়াতের যৌথ প্রার্থী(উন্মুক্ত আসন) ছিল ৪ টি। সব মিলিয়ে ৩৯ আসনে লড়াই করে জামায়াত। এসব আসন থেকে যোগ বিয়োগ করে ৫১ আসনকে টার্গেটে নিয়েছে দলটি। তারা মনে করে সবগুলো আসনে তারা ভালো করবে। সুতরাং এই ৫১ আসন কোনভাবেই ছাড় দিতে চাননা তারা।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


মুক্তিযুদ্ধকে ‘কলঙ্কিত’ এবং বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে ‘অপমান...

রাজনীতি | 2017-10-05 09:04:59

প্রধান বিচারপতি অসুস্থ। এটা নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য বিএনপির প্রতি অন...

রাজনীতি | 2017-10-04 14:00:54

প্রধান বিচারপতির ছুটির দরখাস্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আ...

রাজনীতি | 2017-10-07 12:08:14

প্রধান বিচারপতি অসুস্থ নন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখর...

রাজনীতি | 2017-10-04 09:10:16

জামায়াতের আমির মকবুল আহমাদসহ শীর্ষ আট নেতাকে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ১০দিনে...

রাজনীতি | 2017-10-10 16:18:47

ঢাকা: আগামী ২২ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরবেন...

রাজনীতি | 2017-10-13 13:09:56

যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর অনেকে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন ২০...

রাজনীতি | 2017-10-08 14:04:17

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান সরকারের...

রাজনীতি | 2017-10-11 15:28:07