ভুয়া ছবির জন্য ক্ষমা চাইল মিয়ানমার


কান্ট্রি নিউজ ডেস্ক

Published: 2018-09-04 10:45:03 BdST | Updated: 2018-11-15 10:51:28 BdST

ফাইল ফটো

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ে ভুয়া ছবি প্রকাশের জন্য ক্ষমা চেয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত বইটিতে দুইটি ভুয়া ছবি পাওয়া যায় এবং একটি ছবির ক্যাপশন ছিল ভুল ও বিভ্রান্তিকর।   

মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, ছবি দুটি তারা ভুলভাবে প্রকাশ করেছে।  যদিও এর আগে রয়টার্সের কাছে মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব উ মায়ো মিন্ট মং এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছেন, ওই বই তিনি পড়ে দেখেননি।

দেশটির সেনাবাহিনীর ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক রিলেশনস অ্যান্ড সাইকোলজিকাল ওয়ারফেয়ার’ বইটি প্রকাশ করে। ‘মিয়ানমারের রাজনীতি ও সেনাবাহিনী: প্রথম পর্ব’ নামে ১১৭ পৃষ্ঠার ওই বইয়ে গতবছরের আগস্টের পর শুরু হওয়া সামরিক অভিযান নিয়ে সেনাবাহিনীর ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই তিনটি ছবির মধ্যে দুটি তোলা হয়েছে বাংলাদেশ ও তানজানিয়ায়। মিয়ানমার ছেড়ে পালাতে থাকা রোহিঙ্গাদের তৃতীয় ভুয়া ছবির ক্যাপশনে বলা হয়েছে— বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মুখপত্র মিন্দানাও ডেইলিতে সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা দেখতে পাচ্ছি, দুটো ছবি ভুলভাবে ওই বইয়ে প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে তারা জানায়, এই ভুলের জন্য পাঠক এবং ওই ছবি দুটির আলোকচিত্রীদের কাছে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে তৃতীয় ছবিতে ক্যাপশনের ভুল তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কিছুই বলা হয়নি।
 
বইটিতে যুক্ত করা সাদা-কালো ঝাপসা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি কৃষিকাজে ব্যবহৃত নিড়ানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই লাশের পাশে। ক্যাপশানে বলা হয়েছে— ‘স্থানীয়দের নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাঙালিরা’।

ছবিটি প্রকাশ করা হয়েছে ওই বইয়ে ১৯৪০ এর দশকে মিয়ানমারের দাঙ্গার অধ্যায়ে। ছবির বিবরণে বর্মী ভাষায় বোঝানো হয়েছে, রোহিঙ্গাদের হাতে বৌদ্ধ হত্যার ছবি। বইটিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের মুসলিম রোহিঙ্গাদের বর্ণনা করেছে ‘বাঙালি অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে।

 

কিন্তু, খোঁজ করতে গিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স দেখেছে, ওই ছবি আসলে তোলা হয়েছিল ১৯৭১ সালে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়, যখন লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী।

ঝাপসা সাদা-কালো আরেকটি ছবিতে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে, যারা লংমার্চে এসেছেন, পিঠে টোপলা। ছবির ক্যাপশনে লেখা— ব্রিটিশ সরকার মিয়ানমারের নিম্নাঞ্চল দখলের পর বাঙালিরা প্রবেশ করছে। এই ছবিটিকে ১৯৪৮ সালে মিয়ানমারে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে রোহিঙ্গাদের আগমনের দৃশ্য হিসেবে বলা হয়। 

কিন্তু, রয়টার্স বইয়ের এই ছবিটির সত্যতা যাচাই করে দেখেছে, ১৯৯৬ সালে রুয়ান্ডার গণহত্যার সময় শরণার্থীদের তানজানিয়ায় পালানোর দৃশ্যটি ধারণ করেছিলেন ফটোগ্রাফার্স মার্থা রিয়াল, যিনি পিটসবার্গ পোস্ট-গ্যাজেটে কর্মরত। তিনি রঙিন এই ছবিটির জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছিলেন। সেটিই বিকৃত করে বইয়ে ব্যবহার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

আরেকটি সাদা-কালো ছবি সেনাবাহিনীর বইয়ে ছাপানো হয়েছে, যেখানে ছোট্ট নৌকায় মানুষ আসতে দেখা যাচ্ছে। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা— বাঙালিরা স্রোতের বেগে মিয়ানমারে প্রবেশ করছে।

সত্যিকার অর্থে ছবিটি ২০১৫ সালে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মিয়ানমার ত্যাগের। সে সময়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াতে পালিয়ে যান।

মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেই এ ছবির তথ্য নেয়া হয়েছে। প্রকৃত ছবিটি রোটেট এবং ব্লারেড করায় দেখতে অস্পষ্ট হয়ে গেছে।

সেনাবাহিনী প্রকাশিত বইটিতে রোহিঙ্গাদের 'সঠিক ইতিহাস' তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিম মিয়ানমারের অধিবাসী দাবিকারীরা মূলত বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করেছে।

বইয়ের ভূমিকায় লেখক লে. কর্নেল ইয়াও ইয়াও ও বলেছেন, ‘বাঙালিদের ইতিহাস উন্মোচনে ডকুমেন্টারি ফটোর সঙ্গে তথ্যগুলো সমন্বিত করা হয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘দেখা গেছে যে, যখন মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিবর্তন অথবা জাতিগত সশস্ত্র সংঘাত হয়েছে, তখনই এসব বাঙালিরা সুযোগ নিয়ে মিয়ানমারে বসতি গড়েছে।’

বইটিতে অভিযুক্ত করা হয়েছে, মিয়ানমারের দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রুপান্তরের সময়ে যে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়, সে সময়ে ধর্মীয় সংঘাত তৈরি করে মুসলিমরা (রোহিঙ্গা) সুবিধা নিয়েছে।

তবে এসব বিষয়ে রয়টার্স লে. কর্নেল ইয়াও ইয়াও ও’র কোনো মন্তব্য নিতে পারেনি।

রয়টার্স বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত জনপ্রিয় টুলস গুগল রিভার্স ইমেজ সার্চ এবং টিনিআইতে বইটির কিছু ছবি পরীক্ষা করে দেখেছে। সেখানে অনলাইনেই তারা এসব ছবির আগের মূল সোর্সের উল্লেখ পেয়েছে।

বইটিতে ৮০টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যার বেশিরভাগই সেনাপ্রধান মিন অং হ্লা সম্প্রতি বিদেশি প্রতিনিধি ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের নিয়ে রাখাইন পরিদর্শনের সময় তোলা ছবি।

আরসা’র প্রকাশিত ভিডিও থেকেও স্ক্রিনশট নিয়ে অনেকগুলো ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

৮টি ছবিকে রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক ছবি বলে বইতে দেয়া হয়েছে, এর মধ্যে তিনটিই ভুয়া। বাকি পাঁচটি রাজ্যের ছবি কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।


আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত


একদলীয় শাসন ব্যবস্থাধীন উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির পলি...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-09 18:01:54

৬টি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। ৬টি...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-07 09:25:46

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-14 22:35:14

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে সাইকেল চালানোর রুটে ট্রাক তুলে দ...

আন্তর্জাতিক | 2017-11-01 17:23:18

তুরস্কের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-14 09:35:00

সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে গাড়ি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ি...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-15 18:21:43

দ্য মেট্রোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারী কর্মকর্তা হলেন সাব-লেফটেন্যান্ট...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-15 18:27:32

মিশরে মিয়ানমার দূতাবাসে ছোট্ট একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গি গোষ্ঠী হাজম...

আন্তর্জাতিক | 2017-10-02 08:18:29